দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ত্বকের ক্যানসার পুনরায় ফিরে আসা ঠেকাতে ব্যক্তিভিত্তিক নতুন একটি টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগে আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া গেছে। ওষুধের সঙ্গে এই টিকা প্রয়োগে অস্ত্রোপচারের পর উচ্চঝুঁকিতে থাকা মেলানোমা রোগীদের দীর্ঘ সময় ক্যানসারমুক্ত রাখা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে টিকাটি উদ্ভাবনকারী দুই প্রতিষ্ঠান।
তবে কতদিন পর্যন্ত রোগীরা ক্যানসারমুক্ত থাকবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। একই সঙ্গে পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ ফল এখনো প্রকাশিত বা স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পর্যালোচিত হয়নি। তাই ক্যানসার বিশেষজ্ঞরা একে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখলেও সতর্কতার ওপর জোর দিয়েছেন।
টিকাটি তৈরি করেছে ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মার্ক অ্যান্ড কোং, যা ইউরোপে এমএসডি নামে পরিচিত, এবং মডার্না। উচ্চঝুঁকির মেলানোমায় আক্রান্ত রোগীদের অস্ত্রোপচারের পর নতুন এই টিকা দেওয়া হয়।
‘ইন্টিসমেরান’ নামের টিকাটি ক্যানসার চিকিৎসায় আগে থেকেই ব্যবহৃত রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাভিত্তিক ওষুধ ‘কিট্রুডা’র সঙ্গে প্রয়োগ করা হয়। শুধু কিট্রুডা ব্যবহারের তুলনায় টিকা ও ওষুধ একসঙ্গে প্রয়োগে রোগীরা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি সময় ক্যানসারমুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি শরীরের অন্য অঙ্গে রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও কমেছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠান দুটি।
তৃতীয় ধাপের এই পরীক্ষায় এক হাজারের বেশি রোগী অংশ নেন। তাদের উচ্চঝুঁকির দ্বিতীয়, তৃতীয় বা চতুর্থ ধাপের মেলানোমা ছিল। অর্থাৎ কারও শরীরের নির্দিষ্ট স্থানে বড় টিউমার ছিল, আবার কারও ক্যানসার শরীরের অন্য অংশেও ছড়িয়ে পড়েছিল।
এনএইচএস ইংল্যান্ডের ক্যানসারবিষয়ক জাতীয় ক্লিনিক্যাল পরিচালক অধ্যাপক পিটার জনসন বলেন, ‘এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।’
বিবিসির ‘টুডে’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ব্যবহৃত বেশির ভাগ ক্যানসার চিকিৎসায় রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে ক্যানসার শনাক্ত করার আশা করা হতো। নতুন এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে অত্যন্ত নির্দিষ্টভাবে ক্যানসার কোষের দিকে পরিচালিত করা সম্ভব হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের চিকিৎসা রোগীদের কাছে পৌঁছে দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে এনএইচএস।’
মার্ক ও মডার্না এই টিকাকে ব্যক্তিভিত্তিক টিকা হিসেবে বর্ণনা করেছে। কারণ, এটি প্রত্যেক রোগীর নিজস্ব টিউমারকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়।
টিকাটি তৈরিতে বার্তাবাহী রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা করোনাভাইরাসের কিছু টিকাতেও ব্যবহৃত হয়েছিল। এ জন্য অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রোগীর টিউমারের একটি ছোট অংশ সংগ্রহ করে এর ডিএনএ বিশ্লেষণ করা হয়। এরপর ক্যানসার কোষে থাকা নির্দিষ্ট পরিবর্তনকে লক্ষ্য করে ব্যক্তিভিত্তিক টিকাটি তৈরি করা হয়।
এই টিকা রোগীর রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে অবশিষ্ট থাকা ক্যানসার কোষ শনাক্ত ও আক্রমণ করার নির্দেশ দেয়।
একই ধরনের ব্যক্তিভিত্তিক টিকা ফুসফুস, মূত্রথলি ও কিডনির ক্যানসারের ক্ষেত্রেও পরীক্ষা করছে দুই প্রতিষ্ঠান।
মডার্নার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টিফেন ব্যানসেল বলেন, ‘ক্যানসার গবেষণার ক্ষেত্রে এই ফলাফল একটি ‘মোড় ঘোরানো মুহূর্ত’। ঘোষণার পর মডার্না ও মার্ক—দুই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে।’
তবে বিশেষজ্ঞরা ফলাফলকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও জানিয়েছেন, এখনো এটি প্রাথমিক পর্যায়ের তথ্য। ক্যানসার রিসার্চ ইউকের প্রতিরোধ ও প্রাথমিক শনাক্তকরণ বিভাগের প্রধান চিকিৎসক তালিসিয়া কুয়ালো বলেন, ‘গবেষণাটি আশার সঞ্চার করেছে। তবে অন্তর্বর্তীকালীন তথ্য এখনো পুরোপুরি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, ‘ক্যানসার রোগীরা যেন দীর্ঘ ও উন্নত জীবনযাপনের জন্য আরও বেশি ব্যক্তিভিত্তিক চিকিৎসার সুযোগ পান, সে জন্য এ ধরনের গবেষণায় অর্থায়ন অব্যাহত রাখা জরুরি।’
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও চিকিৎসা ক্যানসার বিশেষজ্ঞ লেনার্ড লি বলেন, ‘মেলানোমা রোগীদের জন্য এটি অবশ্যই ভালো খবর। তবে এই গবেষণার প্রভাব আরও বিস্তৃত। ব্যক্তিভিত্তিক ক্যানসার টিকা কার্যকর হতে পারে—এ গবেষণা তার প্রমাণ দিয়েছে।’
গবেষণাটির আরও বিস্তারিত ফল আগামী অক্টোবর মাসে একটি চিকিৎসাবিষয়ক সম্মেলনে উপস্থাপন করা হবে। পরীক্ষার পুরো প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরও চিকিৎসাটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পেতে হবে। এরপর এনএইচএসে রোগীদের জন্য ব্যবহারের আগে আরও একটি অনুমোদন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
/অ